|
সরস্বতী পূজা ২০২৬: বিদ্যা ও সুরের আবাহনে বসন্তের ছোঁয়া
বিজ্ঞাপন যেকোনো প্রকার গাড়ীর ইন্সুরেন্স এর জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের ঠিকানা : SHUBHIT COMMUNICATION বিবেকানন্দ রোড, কুমারঘাট ঊনকোটি ত্রিপুরা WHATSAPP - 9774830971 এই নাম্বারে।

সরস্বতী পূজা ২০২৬: বিদ্যা ও সুরের আবাহনে বসন্তের ছোঁয়া


মাঘের হালকা শীত আর পলাশ ফুলের লাল আভায় যখন প্রকৃতি সেজে ওঠে, তখনই বাঙালি মেতে ওঠে জ্ঞান ও শিল্পের আরাধনায়। সরস্বতী পূজা—বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে অন্যতম এক আবেগের উৎসব। শুধু ধর্মীয় রীতি নয়, এটি ছাত্রছাত্রী ও শিল্পমনা মানুষের কাছে এক বিশেষ দিন। আজকের ব্লগে আমরা জানবো সরস্বতী পূজার মাহাত্ম্য, এর বিশেষ আচার এবং আধুনিক জীবনে এর গুরুত্ব সম্পর্কে।
১. বিদ্যার দেবী মা সরস্বতী
হিন্দু শাস্ত্র মতে, দেবী সরস্বতী হলেন বিদ্যা, বুদ্ধি, সংগীত ও শিল্পের আরাধ্যা। তাঁর শ্বেতশুভ্র রূপ পবিত্রতার প্রতীক। হাতের বীণা যেমন সুরের সাধনা শেখায়, তেমনি অন্য হাতের পুস্তক আমাদের দেয় জ্ঞানের দিশা। তাঁর বাহন সাদা রাজহাঁস আমাদের শেখায় জীবন থেকে অসারতা ত্যাগ করে সারবস্তু বা সত্যকে গ্রহণ করতে।
২. বসন্ত পঞ্চমী ও সরস্বতী পূজা
সরস্বতী পূজা মূলত মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে পালন করা হয়, যাকে আমরা 'বসন্ত পঞ্চমী' বলি। এই দিন থেকেই ঋতুরাজ বসন্তের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। বাসন্তী রঙের শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে এদিন চারপাশ যেন এক হলুদ সমুদ্রে পরিণত হয়।
৩. পূজার বিশেষ কিছু রীতি
বাঙালি ঘরে সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে কিছু মজার ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম প্রচলিত আছে:
 * হাতেখড়ি: ছোট শিশুদের অক্ষরজ্ঞানের সূচনা হয় দেবীর পায়ে ফুল ছুঁইয়ে।
 * বই-খাতা পূজা: এদিন ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা থেকে বিরতি নেয় এবং তাদের বই, কলম ও দোয়াত দেবীর চরণে অর্পণ করে আশীর্বাদ চায়।
 * কুলের স্বাদ: পূজার আগে কুল (বরই) না খাওয়ার নিয়মটি ছোটবেলার এক নস্টালজিয়া। পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পর প্রসাদি কুল খাওয়ার আনন্দই আলাদা।
৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উৎসবের আমেজ
স্কুল ও কলেজগুলোতে সরস্বতী পূজা মানেই এক অন্যরকম আনন্দ। ছাত্রছাত্রীরা মিলে মণ্ডপ সাজানো, ভোগ রান্নায় সাহায্য করা এবং অঞ্জলি দেওয়া—সব মিলিয়ে এক দারুণ সামাজিক বন্ধন তৈরি হয়। এদিন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন এক একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
৫. বর্তমান সময়ে সরস্বতী পূজা
বর্তমান যান্ত্রিক যুগেও সরস্বতী পূজার প্রাসঙ্গিকতা কমেনি। বরং এটি এখন সৃজনশীলতার উৎসবে পরিণত হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় থিমভিত্তিক প্যান্ডেল এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আমাদের কৃষ্টি ও কালচারকে বাঁচিয়ে রাখছে।
উপসংহার
সরস্বতী পূজা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, অন্ধকার বা অজ্ঞানতা দূর করার একমাত্র উপায় হলো জ্ঞান। আসুন, এই শুভ দিনে আমরা প্রার্থনা করি যেন সবার জীবন জ্ঞান ও সুবুদ্ধির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।
আপনার সরস্বতী পূজা কেমন কাটলো? আমাদের কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না!

Post a Comment

THANKS FOR YOUR FEEDBACK

Previous Post Next Post
AJKER UPDATES
AJKER UPDATES